প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখা হয়েছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
Facebook page
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতির সাথে এমন আচরণ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সরকার অস্তিত্ব সঙ্কটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে পড়েছে। আজ বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন।
ফখরুল বলেন, প্রধান বিচারপতি মাত্র ক’দিন আগে জাপান ও কানাডা সফর করে এসেছেন। এসব দেশে উন্নত চিকিৎসার থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে দেশবাসী জানেনা। এমনকি গত পরশু তিনি সুপ্রীম কোর্টে তার কার্যালয়ে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফাইল সই করেছেন। নিয়মিত প্রথা অনুযায়ী গতকাল সকল বিচারপতিকে নিয়ে আইনজীবীদের সাথে পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। অথচ গতকাল আইনমন্ত্রী ও এটর্নি জেনারেল মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে, তিনি নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়েছেন।
ফখরুল বলেন, গত পরশু সন্ধ্যায় তার বাসভবনে সাক্ষাৎপ্রার্থী সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন- ‘আমি সুস্থ আছি কিন্তু কথা বলতে পারবো না’। এসব কিছু থেকে প্রমানিত হয় যে, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতির সাথে এমন আচরণ করা থেকে প্রমানিত হয় যে, সরকার অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ভোট ও ভোটারবিহীন এক নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারী দল আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি কয়েক মিনিটের মধ্যে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় স্বৈরশাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক বিশ্বাস লালন করার জন্য অন্য কোনো দল গঠনের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। এমনকি বিচার বিভাগকে প্রশাসনের অধীন করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষমতা ছিল প্রশাসনের প্রধান রাষ্ট্রপতির হাতে। আজ আবার সেই রাজনৈতিক দলটিই কৌশলে ক্ষমতা দখল করে সুকৌশলে বাকশাল কায়েমের অপচেষ্টায় রত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে অনুগত বিরোধী দল সাজিয়ে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় সরকার কায়েম করেছে। প্রশাসন ও নিম্ন আদালতকে কুক্ষিগত করেছে। অবাধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী মতের জনগণের জন্য স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো অসম্ভব করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সুবিচার পাওয়ার সর্বশেষ ভরসাস্থল উচ্চ আদালতও আজ স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সর্বসম্মত রায় দেয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ আদালত এবং তার সম্মানিত বিচারপতিগণকে সরকার প্রধান থেকে সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও সরকারী দল ও জোটের নেতাকর্মীরা অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও কুৎসিত ভাষায় সমালোচনা করে চলেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদে যে ভাষায় সর্বোচ্চ আদালত ও তার বিচারপতিগণের সমালোচনা করা হয়েছে তা শুধু অভূতপূর্ব নয়-অস্বাভাবিক।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা রিভিউ করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকার দেশের প্রবীন বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার যে নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার বিরুদ্ধে দেশের আইনজীবী সমাজের পাশাপাশি সচেতন জনগণ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকারের এহেন আক্রোশমূলক, ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই এবং শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অনুগত করার সরকারী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
প্রধান বিচারপতিকে ছুটি নিতে বাধ্য করে সরকার নোংরা কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। প্রধান বিচারপতির বর্তমান অবস্থান কী তা জাতি জানতে চায় বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, নাজমুল হক নান্নু ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ।